ছন্দ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চিঠিপত্র – ১১ (শ্রীদিলীপকুমার রায়কে লিখিত)

শ্রীদিলীপকুমার রায়কে লিখিত – ৭

দীর্ঘহ্রস্ব ছন্দ সম্বন্ধে আর-একবার বলি। ও এক বিশেষ ধরনের লেখায় বিশেষ ভাষারীতিতেই চলতে পারে। আকবর বাদশার যোধপুরী মহিষীর জন্যে তিনি মহল বানিয়েছিলেন স্বতন্ত্র, সমগ্র প্রাসাদের মধ্যে সে আপন জাত বাঁচিয়ে নির্লিপ্ত ছিল। বাংলার উচ্চারণরীতিকে মেনে চলে যে-ছন্দ তার চলাফেরা সাহিত্যের সর্বত্র, কোনো গণ্ডির মধ্যে নয়। তা পণ্ডিত-অপণ্ডিত সকল পাঠকের পক্ষেই সুগম। তুমি বলতে পার, সকল কবিতাই সকলের পক্ষে সুগম হবেই এমনতরো কবুলতিনামায় লেখককে সই দিতে বাধ্য করতে পারি নে। সে তর্ক খাটে ভাবের দিক থেকে, চিন্তার দিক থেকে, কিন্তু ভাষার সর্বজনীন উচ্চারণরীতির দিক থেকে নয়। তুমি বেলের শরবতই কর, দইয়ের শরবতই কর, মূল উপাদান জলটা সাধারণ জল– ভাষার উচ্চারণটাও সেইরকম। খঁ বনতক্ষঢ় তদবনড়– কোনো ধ্বনিসৌষ্ঠবের খাতিরেই বা বাঙালির অভ্যাসের অনুরোধে বনতক্ষঢ়এর আ এবং তদবনড় এর এ-কে হ্রস্ব করা চলবে না। এই কারণে বাংলায় বিশুদ্ধ ছন্দ চালাতে গেলে দীর্ঘ স্বরধ্বনির জায়গায় যুক্তবর্ণের ধ্বনি দিতে হয়। সেটার জন্যে বাংলাভাষা ও পাঠককে সর্বদা ঠেলা মারতে হয় না। অথবা দীর্ঘস্বরকে দুই মাত্রার মূল্য দিলেও চলে। যদি লিখতে–

               হে অমল চন্দনগঞ্জিত, তনু রঞ্জিত
                             হিমানীতে সিঞ্চিত স্বর্ণ

তাহলে চতুষ্পাঠীর বহির্বর্তী পাঠকের দুশ্চিন্তা ঘটাতো না।

৮ জুলাই, ১৯৩৬

Pages ( 23 of 33 ): « Previous1 ... 2122 23 2425 ... 33Next »

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

rabindra,rabindranath,gitanjali,rabindra sangeet,রবীন্দ্র,রচনাবলী,রবীন্দ্র
Logo